হঠাৎ করে একদিন চলে আসুন প্রকৃতির কোলে লোকে বলে এটা নাকি মিনি দার্জিলিং।

জায়গার ইতিবৃত্ত
জায়গাটাকে অনেকেই বলে মিনি দার্জিলিং কিন্তু এটি বীরভূম এবং ঝাড়খন্ড সংলগ্ন বর্ডারে অবস্থিত ছোট ছোট পাহাড়ে ঘেরা প্রকৃতির কোলে এবং পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্যের একটি অপরূপ সমাহার। 
একটি দিনের জন্য প্রকৃতির কোলে সময় অতিবাহিত করার এক অপরূপ সুযোগ দিতে পারে এই মিনি দার্জিলিং। 

আনুমানিক দূরত্ব (যাত্রা শুরুর দূরত্বের সাথে যোগ করে নেবেন)
জায়গাটি রামপুরহাট থেকে মাত্র পঁচিশ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। মল্লারপুর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। মল্লারপুর থেকে সালবাদরা হয়ে সারেসডাঙ্গা সেখান থেকে দুবরাজপুর  রাস্তায় মাত্র তিন চার কিলোমিটার দূরত্বে একটি কাঁচা রাস্তা ধরে বামদিকে গেলেই এই দ্রষ্টব্য পৌঁছানো যায়।
এরপর ওই রাস্তা ধরে পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকা বাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলা, পাশে রেখে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুরাতন কিছু গাছের জঙ্গল যদিও বেশ কিছু জায়গায় অত্যন্ত উঁচু নিচু রাস্তা এবং রাস্তার অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। তা সত্ত্বেও এই পথ ধরে এগিয়ে চলার উপলব্ধি যেন মনে হয় উত্তরবঙ্গের কোন এক পাহাড়ি পথ ধরে যাওয়া। হয়তো এই কারোনেই কিছু প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ একে মিনি দার্জিলিং বলে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলে তবে এর সর্বোচ্চ স্থানের দিকে পৌঁছানো যায়। এখান থেকে বেশ কিছুটা রাস্তা পায়ে হেঁটে ঘোরার সুযোগও আছে। আরো একটি পথ পায়ে হাটা প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পাহাড়ের উচ্চতার দিকে যাওয়ার রাস্তা আছে সেখান থেকে এই দৃশ্য আরো অপূর্ব লাগে।  কিন্তু সময়ের অভাবে আমরা সেই দিকে যাবার চিন্তাটা আজকের জন্য বাতিল করলাম তবে যদি কেউ সারাদিনের জন্য এই জায়গায় কাটাতে আসে তাহলে তাদেরকে অবশ্যই বলব ওই পথ ধরে আরো উচ্চতায় যাবার চেষ্টা করুন। ভালো লাগবে।

আমাদের আনন্দ
সঙ্গে আমার মেয়ের খেলার জন্য কোন বল আনা হয় নাই সুতরাং হেলমেট টাকেই ওরা দুজনে বল করে খেলা শুরু করল। তাদের এই হেলমেট খেলা দেখতে দেখতে কেটে গেল প্রায় আধঘণ্টা। তারপরও মেয়ের ইচ্ছা করলো একটু দৌড়াদৌড়ি করতে তারও সুযোগ তাকে করে দেয়া হলো। পাহাড়ের একদিক দিয়ে ওঠা আর ঠিক অন্য দিক দিয়ে নামা সুতরাং একই রাস্তায় বারবার আসা-যাওয়া করার যে বিলুপ্ত তা আমাদের হয় নাই। 

এই জায়গাটিতে পিকনিক করার জন্য বেশ কিছু ফাঁকা জায়গা আছে হাঁটা পথের যেতে হয়। সুতরাং যদি শীতের মৌসুমে বা অথবা বনভোজনের অভিলাস নিয়ে কেউ এখানে আসতে চায়, সেটাও করা সম্ভব। 

পথযাত্রার কিছু মুহূর্ত 


Comments